জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের আগে সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। বিকাল পৌনে ৪ টায় মিছিল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা।
এদিকে সংস্কারের নামে জাকসু বানচালের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ‘জাকসুর পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পালটা অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ‘জাকসুর পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের পেছনে রয়েছে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’,ইসলামি ছাত্র শিবির,গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন,আদিপত্যবাদ বিরোধী মঞ্চসহ জুলাই বিপ্লবের পরে গড়ে উঠা বেশ কিছু সংগঠন। তবে তাদের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিতে দেখা গেছে। সন্ধ্যা সাতটায় ঘোষিত মিছিল শেষে আজকের মধ্যে জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিকালের অবস্থান কর্মসূচী সম্পর্কে ছাত্রদলের সদস্য সচিব অনিক বলেন, জাকসু নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে যারা বসে আছেন তারা আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের বসিয়ে রেখে কোনভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাছাড়া জাকসুর যে গঠনতন্ত্র রয়েছে সেটা অনেক আগের। এই গঠনতন্ত্র সংস্কার করতে হবে এবং এই কাজগুলো সম্পন্ন করে নির্বাচন দিতে হবে অন্যথায় তা মেনে নেওয়া হবে না। আজকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
ছাত্রদলের আহবায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কার এবং ১৫ ই জুলাই শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আইন শৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর যারা জড়িত তাদের বিচার দাবিতে আমরা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। সেই দাবির আপডেট জানতে আজকে আমাদের এই বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি। আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
এদিকে, সন্ধ্যায় ‘জাকসুর পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের অবস্থান কর্মসূচিতে গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, অছাত্ররা কীভাবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়, তারা কীভাবে কাউন্সিল কক্ষে বসে মিটিং করে। প্রশাসনকে বলতে চাই, নূরুল আলম প্রশাসন যে ভুল করেছে আপনারা সে ভুল করবেন না। আজকে যদি প্রশাসন তফসিল ঘোষণা করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা তফসিল না নিয়ে এখান থেকে যাব না।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ওনারা বলে জাকসু হলে নাকি লাশ পড়বে। তার মানে উনি সিদ্ধান্ত দিয়েছে তারা অশান্তি অরাজকতা সৃষ্টি করবে। তারা কাদের ছত্রছায়ায় এরা ক্যাম্পাসে আসে। তারা হলে এসে মিটিং করে, দু’দিন পর আমাকে হল থেকে বের করে দিবে না- তার কি গ্যারান্টি আছে। জাকসু না হলে আবার সে নতুন স্বৈরাচার গড়ে উঠবে। আপনারা যে নামেই রাজনীতি করেন না কেন, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি শুরু করতে চাইলে আবার মুগ্ধ, সাঈদ জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
প্রসঙ্গত, পুর্বের ঘোষণা অনুসারে আজ ১ লা ফেব্রুয়ারি জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা ছিল।
