২৪ বছরে ও প্রিয়া তুমি কোথায়

২৯ জানুয়ারি, ২০০১। বিশ বছর আগের কথা, প্রথমে ঢাকার বাইরে এবং পরের দিন তা সারা দেশের প্রতিটি অলিগলি আর অডিও দোকানগুলোতে বেজে উঠেছিল ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’।

তারপর সৃষ্টি হলো বাংলা অডিও জগতে এমন এক ইতিহাস, যা আর কোনোদিন ভাঙবে না। অ্যালবামটি সংগ্রহে রাখার জন্য তখন মানুষ এক রকম হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। এটি এমন একটি অ্যালবাম, যার প্রতিটি গান মানুষের মুখে মুখে ছিল। এখন পর্যন্ত দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল অ্যালবামের তকমা পেয়ে যায় সহজেই। প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে অ্যালবামটি ৬০ লাখেরও বেশি বিক্রি হয়েছে। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে যে রেকর্ড আর কখনো কোনোদিন ভাঙবে না।

আসিফ আকবর ইন্ডাস্ট্রিকে দেখিয়েছিলেন এক নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন। প্রায় একাই ইন্ডাস্ট্রিকে টেনেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। তিনি সংগীত জগতে একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করে হয়েছেন বাংলা গানের ‘রাজপুত্র’।

‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে ধূমকেতুর মতো উদয় হয়েছিলেন কুমিল্লার এই সন্তান। অ্যালবামের শিরোনাম গানটি এ দেশের তরুণদের প্রিয় গান হয়ে উঠেছিল।

২৯ জানুয়ারি ঢাকায় ও পরদিন ৩০ জানুয়ারি সারাদেশে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ প্রকাশ পেয়েছিল। সেই হিসেবে অ্যালবামটির এবং গায়ক হিসেবে আসিফ আকবরের ২ যুগপূর্তি হলো।

গীতিকার ও সুরকার ইথুন বাবুর হৃদয়ছোঁয়া কথা এবং সুরে আসিফের উন্মাদনা ছড়ানো কণ্ঠে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যালবামটি অডিও বাজারে ঝড় তোলে। প্রথম অ্যালবাম দিয়েই আসিফ জানান দিয়েছিলেন, অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করতে এসেছেন এক নতুন গায়ক। অ্যালবামটি প্রকাশের পর আসিফকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সিনেমা ও চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে গান করে যান তিনি। নিজেকে নিয়ে যান জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামের প্রায় সবকটি গানই শ্রোতা লুফে নেয়। তবে এর প্রথম গান ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। গানটির শ্রোতাপ্রিয়তা দেখে একটি সিনেমাতেও সংযোজন করা হয় গানটি। গানের নামেই রাখা হয় সিনেমার নাম। ২০০২ সালে ছবিটি নির্মাণ করেন পরিচালক শাহাদাত হোসেন লিটন। তখনকার সুপারহিট জুটি রিয়াজ-শাবনূরের সঙ্গে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আজকের সুপারস্টার শাকিব খানও। ছবিতে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানটি বেজেছিল রিয়াজের ঠোঁটে।

অ্যালবামটি প্রকাশ করে প্রযোজনা সংস্থা ‘সাউন্ডটেক’। বলা হয়, এই একটি অ্যালবাম মুড়ির মতো বিক্রি হয়েছে। হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সব শ্রেণির শ্রোতা।

‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামের দুই যুগ পূর্তিতে আসিফ আকবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘২ যুগ, ২৪ বছর, ও প্রিয়া তুমি কোথায়’। সঙ্গে অ্যালবামটির ছবিও জুড়ে দিয়েছেন। আসিফের ওই পোস্ট দেখে অনুরাগীরা তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

হিমেল নামে একজন লিখেছেন, ‘আজীবন বেঁচে থাকবে ও প্রিয়া তুমি কোথায় অ্যালব্যামের গানগুলো। সেই ছোটবেলা থেকেই আজ অবধি গানগুলো শুনে যাচ্ছি। কখনো পুরোনো হয়ে গেছে মনে হয়নি। লাভ ইউ আসিফ আকবর। সব সময়ই শুভকামনা রইলো। অনেক ভালোবাসি আপনাকে। সারা জীবনই এমন ভালোবেসে যাব ।’

মমিন হাসান নামের এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন ও প্রিয়া ও প্রিয়া তুমি কোথায় গানের গায়ক আসিফ নজরুল। ভালোবাসা অবিরাম প্রিয় ভাই।’ সানজিদা নামে একজন লিখেছেন, ‘তখন ক্লাস ফোর কিংবা ফাইভে পড়তাম, জাস্ট পাগল ছিলাম আপনার গানের জন্য। ক্যাসেট সংগ্রহ করতাম সব। ভাবা যায় না, সময় কীভাবে চলে যায়। পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে পড়ে গেল।’ আসিফ আকবর একটা প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার পুরোনো গানগুলো বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। তার গাওয়া গান কাভার করে এ প্রজন্মের অনেক শিল্পী প্রশংসা পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *