পুরুষের ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্ন শুধু নারীরাই করবেন এমন নয়। নারী-পুরুষ উভয়ের প্রয়োজন ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেওয়া। তবে বেশিরভাগ পুরুষই নিজেদের ত্বক সম্পর্কে সচেতন নন। ব্রণ, ঘাম, শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে চাইলে ছেলেদেরও মৌলিক যত্নের রুটিন মেনে চলা জরুরি।

ছেলেদের ত্বক এমনিতেই বেশি রুক্ষ। তাই তাদের ত্বকের সমস্যাও বেশি। সঠিক সময়, সঠিক যত্নে এসব সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, ত্বকের যত্ন মানেই অনেক বেশি সৌন্দর্যপণ্যের ব্যবহার নয়, বরং সঠিক পণ্য ব্যবহার।

শাকসবজি ও ফল খান : ত্বকের উজ্জ্বলতা ফুটে ওঠে ভেতর থেকে। ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করা জরুরি। দৈনন্দিন খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ভিটামিন থাকতে হবে। এজন্য তাদের ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে হবে।

* শীতকালে বেশি করে শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে ত্বকের সতেজতা বজায় থাকবে। এ ছাড়া ত্বকের জন্য ফল সব সময়ই উপকারী। তাই এখন সম্ভব হলে দিনে একটি করে হলেও ফল খান। তবে এখন যথাসম্ভব শুকনো খাবার এড়িয়ে চলুন।

ত্বক ক্লিন রাখা : মুখের ত্বকে নারী বা পুরুষ কারো সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। সাবান মুখের ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মুখ ধোয়ার কাজে সব সময় ভালো মানের ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। দিনে অন্তত দুইবার ত্বক পরিষ্কার করবেন। ধুলোবালি, ঘাম, বায়ুদূষণের কারণে ত্বকের ছিদ্রে ময়লা জমে। এগুলো দূর করতে ক্লিনজার সাহায্য করবে। এতে ত্বকের ধুলোবালি দূর হয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াবে।

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখুন : ত্বকের আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক ফেটে মুখের চামড়া উঠে যেতে পারে। সাধারণত ত্বক শুষ্ক হলেই ত্বকের নানা সমস্যা বাড়তে থাকে। এ জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার খুবই জরুরি। এটি যে শুধু ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে, তা নয়। ত্বকে বয়সের ছাপও পড়তে দেয় না। তাই এ মৌসুমে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় গোসল ও শেভ করার পর।

সঠিক পদ্ধতিতে শেভ : যারা নিয়মিত শেভ করেন, তাদের কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। যেমন সঠিক পদ্ধতিতে শেভ না করলে রেজার বার্ন বা রেজার বাম্পের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে মাল্টি ব্লেড রেজার ছেড়ে সিঙ্গেল বা ডাবল ব্লেড রেজার ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সাধারণ শেভিং ক্রিমের বদলে ময়েশ্চারাইজিং শেভিং ক্রিম বেছে নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবার রেজার টানার পর মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। যাদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল, তারা তিন থেকে পাঁচবার শেভের পরই ব্লেড বদলে ফেলুন এবং সেন্টেড আফটারশেভ ব্যবহার না করাই ভালো।

সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম মাখতে হবে : সানস্ক্রিন পুরুষদের জন্যও দরকার। অনেকেই ভাবেন শীতকালে সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দিনের বেলা বাইরে বের হওয়ার আগে ত্বকে সব সময় ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের লালচে ভাব, ট্যানিং, দাগ বা পিগমেন্টেশন থেকে দূরে রাখবে। দীর্ঘ মেয়াদে সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখার সমস্যাও এড়াতে পারবেন।

দাড়ির যত্ন : শীতের শুষ্কতার সঙ্গে লড়াই করে দাড়ি সুন্দর রাখা সহজ বিষয় নয়। এ মৌসুমে দাড়ি শুষ্ক হয়ে সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন বিয়ার্ড অয়েল। এটি আপনার দাড়ি এবং ত্বকের নিচে ভালোভাবে প্রয়োগ করুন। এটি দাড়িকে ময়েশ্চারাইজড রাখতে সহায়তা করবে।

নিয়মিত ব্যায়াম : নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। আর মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকাটাও জরুরি।

ফেসওয়াশ ব্যবহার : সাধারণ সাবানে অনেক বেশি রুক্ষ উপাদান থাকে; যা মুখের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। যারা বাইরে অনেক বেশি সময় থাকেন এবং ওয়ার্কআউট করেন, তাদের মুখ ধোয়ার জন্য ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর অল্প গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন স্ক্র্যাব করানো উচিত। এতে ব্রণের সমস্যারও সমাধান হবে।

প্রোডাক্টের লেবেল দেখে নেওয়া : নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী যথাযথ পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। ব্রণ-অ্যাকনের সমস্যা থাকলে ‘অয়েল ফ্রি’ ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই ভালো। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অবশ্যই কোমল, সুগন্ধহীন পণ্য নির্বাচন করতে হবে। নারীদের ত্বকের যেমন নানা ধরন রয়েছে, তেমনি পুরুষেরও। তাই যে কোনো সৌন্দর্যপণ্য কেনার আগে বুঝতে হবে আপনার ত্বকের ধরন।

সেনসিটিভ, স্বাভাবিক, শুষ্ক, তৈলাক্ত বা কম্বিনেশন ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *